শনিবার , জুলাই ২১, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ঈদের কয়েকটি মজাদার রেসিপি

জীবনধারা ডেস্ক

অন্য দিন থেকে ঈদের দিনটি আলাদা হয় আসলে মজার মজার রান্না এবং সবাইকে খাওয়ানোর মাধ্যমে। তো প্লান করছেন এই ঈদে কী কী রান্না হবে? যদি নতুন রাধুনী হয়ে থাকেন জেনে নিন ঈদের দিনে রান্নার জন্য কয়েকটি আইটেম।

ঈদের মেন্যুতে রাখতে পারেন এমন কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন- নাজিয়া ফারহানা।

লেমন চিকেন বিরিয়ানি:
উপকরণ:
মুরগির ১২টি রান চামড়াসহ (অথবা ২টি মুরগি বড় বড় করে কাটা), পেঁয়াজ বাটা ৪ টেবিল চামচ, আদা, রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, টমেটো ১টি (বড়), কারি পাউডার ১ টেবিল চামচ, জয়ফল বাটা ১ চা চামচ,শাহ জিরা বাটা ১ চা চামচ, জয়ত্রী বাটা আধা চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা দেড় কাপ, আলু বোখারা ৬/৭টি, গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ, পরিমাণমতো লবণ, তেল আধা কাপ, কাঁচামরিচ ১ মুঠো।

বিরিয়ানি রান্নার উপকরণ : বাসমতি চাল ৫ কাপ (১ কেজি), পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, লেমন গ্রাস, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলা (এলাচ, দারুচিনি), টমেটো সস ১ টেবিল চামচ, নারিকেল দুধের পাউডার আধা কাপ, পানি ৯ কাপ (পানির সঙ্গে নারিকেল দুধের পাউডার মিশিয়ে পানি গরম করে রাখতে হবে), কেওড়া জল ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদাম এবং কিশমিশ, কিছু পেঁয়াজ বেরেস্তা এবং ঘি পৌনে এক কাপ।

প্রণালি:
প্রথমে বাসমতি চাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। মুরগি রান্না হতে হতে চাল নরম হয়ে যাবে। এবার মুরগির টুকরাগুলো ধুয়ে পানি ভালো করে মুছে নিন কিচেন মোটা টিস্যু দিয়ে মুরগির সঙ্গে ১ চা চামচ পরিমাণ লবণ এবং ১ চা চামচ পরিমাণ হলুদ গুঁড়া মেখে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ বেরেস্তা করে তুলে রাখুন। একই তেলে মুরগিগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন এখন এই তেলে পেঁয়াজ বাটা, আদা, রসুন দিয়ে ভালো করে ভাজা ভাজা করে নিন এবং ভাজা হলে টক দই, টমেটো কারি পাউডার, জয়ত্রী, জয়ফল, শাহজিরা বাটা দিয়ে একটু পানি এবং অল্প লবণ দিয়ে ভালো করে মসলা কষিয়ে ভাজা মুরগিগুলো কষিয়ে নিন। অল্প একটু পানি দিয়ে মুরগি ঢেকে ৫/৬ মিনিট রান্না করুন। মুরগি সিদ্ধ হয়ে এলে বেশি করে পেঁয়াজ বেরেস্তা, আলু বোখারা, গোলাপ জল কাঁচামরিচ এবং লবণ দেখে নিন। লাগলে লবণ দিয়ে নেড়ে ২/৩ মিনিট চুলায় রেখে মাখা মাখা মুরগি ঝোল থাকতে নামিয়ে নিন। অন্য একটি হাঁড়িতে চাল রান্নার জন্য ঘি বাদাম কিশমিশ ভেজে তুলে রাখুন। এবার ঘির সঙ্গে এলাচ দারুচিনি লেমন গ্রাস এবং পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি করে ভেজে সঙ্গে আদা বাটা, টমেটো সস দিয়ে কষিয়ে পানি ঝরানো চাল ৭/৮ মিনিট ভাজতে থাকুন। ভাজার এ পর্যায়ে চালের রং পরিবর্তন হলে নারিকেল দুধ মিশানো গরম পানি দিয়ে সঙ্গে পরিমাণমতো লবণ দিয়ে নেড়ে দিন। চাল ৩/৪ বার বলগ উঠে যখন হাফ রান্না হবে তখন আলাদা একটি হাঁড়িতে কিছু চাল উঠিয়ে রান্না করা মুরগি মাংস সব চাল হাড়িতে ঢেলে দিন এবং তুলে রাখা চাল ওপরে দিয়ে দিন। এবার ওপরে কেওড়া জল, বাদাম, কিশমিশ এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা ছিটিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দমে রাখুন ২০ মিনিট। ২০ মিনিট পর বিরিয়ানি চুলা বন্ধ করে দিন এবং বিরিয়ানি পরিবেশনের আগে হালকাভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন এবং সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

রুই মাছের কালিয়া:
উপকরণ:
টাটকা রুই মাছ ৫০০ গ্রাম, হলুদ গুঁড়া ১ চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চামচ, জিরে গুঁড়া ১ চামচ, লবন ও সরষের তেল আন্দাজমতো, আদা বাটা ১ চামচ, রসুন বাটা ১ চামচ, পেঁয়াজ বাটা ৪ চামচ, চেরা কাঁচা মরিচ ৫টি, টক দই ১/২ কাপ, টমেটো কুচি ১টা, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, গরম মসলা ১/২ চামচ, ধনেপাতা কুচি ১/২ কাপ।

প্রণালি:
প্রথমে রুই মাছগুলো লবন ও হলুদ মাখিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। তারপর ঐ তেলে পেঁয়াজ বাটা দিন। ভাজা হয়ে গেলে টমেটো কুচি দিন। একে একে সব মসলা ও টক দই দিয়ে কষাতে থাকুন, যতক্ষণ না তেল ছেড়ে আসে। একটু পানি দিয়ে মাছগুলো দিয়ে ফুটিয়ে নিন। একটু মাখা মাখা হয়ে এলে চেরা কাঁচা মরিচ ফালি, ধনেপাতা কুচি ও গরম মসলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

শিখমপুরি কাবাব:
উপকরণ:
মিহি কিমা দেড় কাপ, এলাচি দারুচিনি লবঙ্গ ২টি করে, শুকনা মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, নারিকেলের দুধ ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, গুঁড়ো দুধ ৪ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, হলুদের গুঁড়া সিকি চা চামচ, বেসন এক টেবিল চামচের একটু কম, ধনের গুঁড়া ১ চা চামচ, ডিম ১টি, জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া সিকি চা চামচ, বিস্কুটের গুঁড়া প্রয়োজনমতো, লবণ স্বাদমতো, সাদা তিল ২ টেবিল চামচ, ভাজার জন্য তেল প্রয়োজনমতো এবং পুদিনাপাতা ও টক দইয়ের মিশ্রণ প্রয়োজনমতো।

প্রণালি:
বেসন, ডিম, গোলমরিচ ও বিস্কুটের গুঁড়া বাদে বাকি সব উপকরণ দিয়ে কিমা সেদ্ধ করে নিতে হবে। এবার মিহি করে বেটে নিতে হবে। ডিমের কুসুম ও প্রয়োজনমতো বেসন দিয়ে মাখাতে হবে। এবার কাবাব বানিয়ে এতে পুদিনাপাতা ও টক দই মিশ্রিত পুর ভরে দিতে হবে। বিস্কুটের গুঁড়ার সঙ্গে সাদা তিল মিশিয়ে রাখতে হবে। এবার কাবাবগুলো ডিমের সাদা অংশে চুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়িয়ে বাদামি করে ভেজে পরিবেশন করতে হবে।

স্পেশাল মাটন কারি:
উপকরণ : খাসির মাংস ১ কেজি, পিয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন বাটা ২ টে. চা, আদা বাটা ৩ টে. চা, হলুদের গুঁড়ো ১ চা চা, মরিচ গুঁড়ো ২ চা চা, জিরা গুঁড়ো ১ চা চা, জায়ফল জয়ত্রী গুঁড়ো ১ চিমটি করে, গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা চা, তেজপাতা ১টি, এলাচ, লবঙ্গ ৩/৪টি করে, মৌরি ১ চা চা, তেল আধা কাপ, ঘি ২ টে. চা, টমেটো পিউরি আধা কাপ, তেঁতুলের কাথ ৩ টে. চা, নারকেলের দুধ আধা কাপ, কাজুবাদাম বাটা ২ টে. চা.।

প্রণালি:
খাসির মাংস দেড় লিটার পানিতে ৪০ মিনিট সিদ্ধ করে স্টক ও মাংস আলাদা করে রাখুন। তেল ও ঘি গরম করে তেজপাতা, মৌরি এলাচ, লবঙ্গ ফোড়ন দিয়ে পিঁয়াজ দিয়ে ভাজুন। পেঁয়াজ সোনালি হলে আধা কাপ পানি দিন এবং আদা, রসুন বাটা, মরিচ, হলুদ, জিরা, লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মসলার ওপরে তেল ভেসে উঠলে সিদ্ধ মাংস দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন। ১০ মিনিট পর মাংসের স্টক দিয়ে ঢেকে আরও ২০ মিনিট রান্না করুন। তরকারিতে মাঝারি পরিমাণে ঝোল থাকবে। তাই ঝোল কমে গেলে প্রয়োজনে গরম পানি দেবেন। এবার নারিকেলের দুধ ও কাজুবাদাম বাটা দিয়ে আরও ১০ মিনিট রান্না করুন। মাংস নরম হয়ে গেলে টমেটো পিউড়ি দিয়ে নেড়েচেড়ে ৩০ মিনিট দমে রাখুন। এবার তেঁতুলের ক্বাথসহ বাকি মসলা দিয়ে আর ৫ মিনিট রেখে নামিয়ে ফেলুন। নামানোর আগে লবণ চেখে দেখুন ও লবণ দিন।

তন্দুরি প্রন:
উপকরণ : চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, ঘি বা মাখন ২ চা চামচ, টক দই ২ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, দারুচিনি গুঁড়া অল্প, বড় এলাচ ১টি, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি সামান্য।

প্রণালি:
চিংড়ি মাছ পরিষ্কার করে ধুয়ে টক দই ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিন। এবার একে একে আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, শুকনা মরিচের গুঁড়া, এলাচ দানা ও সামান্য চিনি দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে এক ঘণ্টা ম্যারিনেট হতে দিন । এক ঘণ্টা পর বাঁশের কাঠিতে চিংড়ি মাছগুলো গেঁথে অল্প ঘি মাখিয়ে প্যানে ভেজে নিন। দুই দিকই ভালো মতো ভাজবেন। তবে চিংড়ি মাছ বেশি রান্না করলে শক্ত হয়ে যায়। তন্দুর করা হয়ে গেলে নামিয়ে নিয়ে লেবুর রস ছড়িয়ে সালাদের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন। ওভেনে করতে চাইলে ১৮০ ডিগ্রিতে প্রি-হিট করে ১০-১৫ মিনিট গ্রিল করে নিন।

চিকেন কোল্ড সালসা:
উপকরণ : হাড় ছাড়া মুরগির মাংস ১ কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, অনিওন পাউডার ১ চা চামচ (বাটা পেঁয়াজ দিয়েও করতে পারেন), গারলিক পাউডার ১ চা চামচ, পাপরিকা পাউডার ১ চা চামচ, লাল মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, গোল মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, অরিগানো আধা চা চামচ (সুপার শপে পাওয়া যাবে), শুকনা মরিচ টালা গুঁড়ো অল্প, টমেটো কেচাপ ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ টেবিল চামচ।

সালাদের জন্য আরও লাগবে:
শসা টুকরা/কুচি, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচি এবং ভাজা মচমচে নুডুলস (যে কোনো নুডুলস ডুবো তেলে মচমচে করে ভেজে নিতে পারেন) আর লেবুর রস, অল্প অলিভ অয়েল।

প্রণালি:
তেল ছাড়া মাংসের সব উপকরণ মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে মেরিনেট করে রাখুন ১০ মিনিট। এক ঘণ্টা হলে আরও ভালো। প্রথমে প্যানে তেল দিয়ে তেল গরম হলে মেরিনেট করে রাখা মাংস দিয়ে মিডিয়াম আঁচে রান্না করুন। ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে নিন। এখন সালাদের জন্য কেটে রাখা শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচিতে অল্প লবণ, ভাজা মচমচে নুডুলস, লেবুর রস আর অল্প অলিভ অয়েল দিয়ে মেখে নিন। (লবণটা খেয়াল রাখতে হবে কারণ রান্না করা মাংসতেও লবণ দেওয়া আছে)। প্লেটে পরিবেশনের সময় আগে মাখানো সালাদ সাজিয়ে নিন। এর ওপর রান্না করা মাংস ছড়িয়ে দিন। চাইলে কিছু ভাজা বাদাম ওপরে ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ