বুধবার , আগস্ট ২১, ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ইসলামপুরে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের বাজার, তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


লিয়াকত হোসাইন লায়ন, স্টাফ করসপনডেন্ট, ইসলামপুর
জামালপুরের ইসলামপুরে ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জমে উঠেছে উপজেলার সর্বত্র ঈদের বাজার। ফ্যাশন হাউজ, বস্ত্রালয়, বিপনি বিতান গুলোতে বেচাকেচার ধুম পড়েছে। সকাল থেকে মধ্যে রাত পযর্ন্ত পৌর শহরসহ বিভিন্ন বাজারের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রি বেশি থাকায় বিক্রেতাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। এবারে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সকল বিক্রেতারা।


বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বিভিন্ন শপিংমল গুলোতে দেখা গেছে, বাহারি পোশাকের যেমন সংগ্রহ রয়েছে তেমনই প্রতিটি দোকান বর্ণিল সাজে সাজানো রয়েছে। প্রায় সর্বত্রই দেশীয় এবং ভারতীয় ডিজাইনের কাপড় ও শাড়ির সংগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ভারতের কাশ্মির ডিজাইন, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি, সুতোর বাহারি নকশার শাড়ি, পাকিস্তানি ঝলমলে কাপড়ের বাহারি সুতোর কাজ করা কাপড়, উজ্জ্বল রঙের জর্জেট, প্লাজু, টিস্যু প্রভৃতি কাপড়ের জরি, চুমকি, সুতি কাপড়ে দেশীয় আল্পনার সুতো, এপিক ও স্কিন বুটিক-বাটিকের পোশাকের সম্ভার দারুন আকর্ষন করছে ক্রেতাদের।
পুরুষদের জন্য দেশী ব্রান্ডের মধ্যে ফেইথ-১১, ক্যাটস আই, মনসুনরেইন, নেক্রট, শীতল, পাস পয়েন্ট, রঙ, রেক্স, সপুরা সিল্ক, কুটুম, ইজিব্রান্ড, হ্যান্ডিবাজার সহ ভারত পাকিস্তানের নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবী চীন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্টের সমাহার উল্লেখ করার মতো।
আবার যারা নিজেদের পছন্দের নকশায় ঈদের পোশাককে সাজাতে চান তারা ছুটছেন দর্জি বাড়ীর দিকে। টেইলার্স গুলোতে কাপড় অর্ডার নিতে হিমশিম খাচ্ছে কারিগররা। কারিগরদেও যেন দম ফেলার সময় নেই। রেমন্ড টেইলার্সের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদের সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন অর্ডার নিলে চাপ একটু বেশী হয়ে যায়। রুচিসম্মত পোষাক সরবরাহ করায় বেচাকেনা ভালই হচ্ছে।
ইসলামপুরে ধর্মকুড়া বাজারের ইসলাম বস্ত্রালয়ের মালিক বলেন, বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। আমাদের এখানে মেয়েদের দেশি-বিদেশি পোশাকের বিপুল সমারোহ রয়েছে। গত কয়েক দিনের চাইতে বর্তমানে বিক্রি অনেকটা বেড়েছে।


ইসলামপুর বাজারের মমতাজ গার্মেন্টস টু’র মালিক সবুজ খন্দকার জানান, এবারে বেচাঁকেনা খুবই ভালই হচ্ছ্।ে আসলে দম ফেলানোর সময় নেই। এবার তো কোন নায়ক-নায়িকাদের নামে পোশাকের নাম দেয়া হয়নি তাই আমরা খুব ভালো ভাবেই সব কাপড় বিক্রি করতে পারছি।
পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে আসা মোরাদুজ্জামান এবং মনিরুজ্জামান লাজু বলেন, ভিড় কম থাকতে ছেলে-মেয়েদের জন্য কেনাকাটা শেষ করেছি। আর ভিড় বাড়ার আগে কাপড় কিনলে ঠকার কোন সম্ভাবনা নেই। কেনাকাটা করতে আসা মিতা জাহান ও মাসুমা জাহান মিলি নামে দুই ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা বলেন, আগে কাপড় কিনলে ভালো ভাবে কাপড় পছন্দ করা যায়। আর ভালো করে কাপড় দরদাম করারও সুযোগ পাওয়া যায়। বেশি ভিড় হলে দোকানের কর্মচারীরা ভালোভাবে কথাও বলবে না তাই আগেই কেনাকাটা শেষ করছি।
তবে সব বিক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতোই সব ধরনের কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি হাঁকা হচ্ছে। মার্কেট মালিকদের দাবি আইন শৃংখলা স্বাভাবিক এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং না থাকলে গত বছর গুলোর চেয়ে এবার তারা আয়ের মুখ দেখতে পাবে। উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটের একাধিক দোকানদারের সাথে কোন পোশাকটা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানতে চাইলে তারা সবাই বলেন, এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি ও সবচেয়ে বেশি চাহিদা হচ্ছে “ থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান লোন, জামদানি শাড়ি, লেহেঙ্গা ও প্লাজু।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ শাহীনুজ্জামান খান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনীর ৬টি টিম উপজেলার প্রতিটি মার্কেট ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। রাতে ট্রেনের যাত্রীদের অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা থেকে রক্ষায় প্রতিটি যানবাহনে খোজ খবর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছতে প্রতিটি পয়েন্টে সার্বক্ষনিক পুলিশ ডিউটিতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, জানজট নিরসনে নিজে রোভাট স্কাউট দল নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি প্রতি নিয়তই বাজার মনিটরিং এর জন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন শপিং মলে যাচ্ছে। ক্রেতাগন যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

error: Content is protected !!