বুধবার , অক্টোবর ২৪, ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সরকারি আমানতের ৫০% বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে সার্কুলার

নিউজ ডেস্ক

ব্যাংকারদের জন্য অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার পথ তৈরি করেছে সরকার।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে। নির্দেশনাটি গত ৩১মার্চ থেকে কার্যকর বলে ধরা হবে।

সরকারি সংস্থাগুলো এতদিন তাদের তহবিলের ৭৫ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এবং বাকি ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখত। সরকার ঠিক করেছে, এখন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ৫০ শতাংশ রাখা হলে বাকি ৫০ শতাংশ রাখা হবে বেসরকারি ব্যাংকে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তহবিল এবং সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মোট নিজস্ব তহবিলের অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে পারবে।

“কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) অথবা উভয় প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখতে পারবে।”

এপ্রিলের শুরুতে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত ‘অতি দ্রুত’ কার্যকর করা হবে।

“সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের পয়সার ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হত, সেটি আমরা বাড়ানোর চিন্তা করেছি। কালকে সিদ্ধান্ত দিয়েছি এবং সেটি অতিদ্রুত কার্যকর হচ্ছে যে বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই বাধ্যবাধকতা ৫০ শতাংশ করা হবে।“

অবশ্য ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে জটিলতার অবসান হওয়ার আগেই সরকারের এমন সিদ্ধন্তে সে সময় বিস্ময় প্রকাশ  করেছিলেন অর্থনীতির বিশ্লেষকদের।

সরকারের জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা আমানত হিসেবে রাখা হয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন ফারমার্স ব্যাংকে। অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে তা আদায় করতে না পারায় ওই ব্যাংক এখন গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। ফলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু তহবিলের আমানতের টাকাও আটকে গেছে।

সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে পুরো আর্থিক খাতে ‘ভুল সংকেত’ যাবে মন্তব্য করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান গত ৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “যে ব্যাংকগুলো এখন খারাপ পারফর্ম করছে তাদের কাছে যদি আবার টাকা দেওয়া হয়, সেই টাকারও অপব্যবহার হবে কিনা- সে নিশ্চয়তা তো নেই।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম